• মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

বিমান তো ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য ১টি মাইক্রো সার্ভিস চালু করতে পারে

Reporter Name / ১৯৩ Time View
Update : শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩

এ্যাড. আবু মহী উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা

ঠাকুরগাঁও: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর দোষের অন্ত নাই , অব্যবস্থাপনারও সীমা নাই। এমন হতে পারে, বিমান এই সব দূর্নাম ঘোচাতে খুবই সচেষ্ট কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারছে না, কেননা সব শরিষা তো বদল করা যায় না। মনে হয় এখানে বিশাল চক্র আছে যারা সবাই মিলে কাজগুলো করছে।

ঢাকা বিমান বন্দরে মাঝে মাঝে যে সব ঘটনা প্রকাশ পায় তা মোট ঘটনার একাংশ মূল বা মোট ঘটনার অনেক কম। গত ২১ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুর থেকে ঢাকা আসার পর আমাদের বিমান বন্দরে যা মোকাবেলা করেছি, যাত্রীরা করেছে এটা একেবারে মেধাবী কর্মকর্তাদের মেধার চরম বহি:প্রকাশ। নির্মান কাজের কারণে উবার , সিএনজি, রাইডার , মাইক্রো , প্রাইভেট গাড়ী গুলো যে খানে পার্ক করা থাকতো সেন্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোন গাড়ী নাই। এয়ার পোর্টের যে কানে ইউটার্ন ছিল সেটা ব্লক করে দিয়ে তা করা হয়েছে জসিমুদ্দিীনে।

এখন যদি কোন গাড়ী দক্ষিন দিকে যেতে চায় তাহলে জসিমুদ্দিন ঘুরে আসতে হবে। আর জসিমুদ্দিন হয়ে ঘোরা যে কি জটিল কাজ তা সবাই বোঝেন। সেদিন ডোমেষ্টিকে যে অবস্থা মোকাবেলা করেছিল যাত্রীরা তা সবাই মনে রাখবে। এ বিষয় ভোলার নয়। যাহোক ৫/৬ ঘন্টা বসে থাকতে হয়েছে অনেক যাত্রীকে। একটা গাড়ী উবার বা সিএনজি পাওয়ার জন্য । এয়ার পোর্ট থেকে আমি যেখানে যাব , সিএনজিতে তার দুরত্ব মাত্র ১১ মিনিটের। আর বাসা থেকে ডোমেষ্টিক পর্যন্ত ৪ মিনিটের রাস্তা। ১০-৩০ থেকে থেকে রাত ১৩-৩০ পর্যন্ত বিমান বন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে এসবের পরে যে বিষয়টা দাগ কেটেছে তা হলো ডোমেষ্টিকের রাস্তার উপরে যে অত্যাধুনিক শেড দেওয়া হয়েছে , সম্ভবত নির্মান কাজ শেষ হয়নি। এটা কি ঠেকানোর জন্য তা জানা যায়নি। না হলে পানি পড়বে কেন? সেই পানি বারান্দাতে পড়ে একেবারে লেজে গোবরে অবস্থা। পানি কেন পড়বে এটার প্রশ্ন তো করা যেতেই পারে। তবে প্রসঙ্গ অন্য।

এত কিছুর পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনস সৈয়দপুর দিনাজপুর ,রংপুর পরিবহন ব্যবস্থা করেছে। রংপুরের জন্য বাস , দিনাজপুরের জন্য কোষ্টার ব্যবস্থা করেছে। যে সময় বিমানের এই ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস আছে সে সময়ে বিমানের ভাড়ার সঙ্গে ট্রান্সপোর্টের ভাড়া নেওয়া হয়। সেই সব ফ্লাইটে যারা ঠাকুরগাঁও আসেন তারাওতো সেই ভাড়ায় টিকিট কাটেন। তাহলে সুবিধা পাবোনা কেনো? যে সব যাত্রী ঠাকুরগাঁও থেকে বিমানে যাতায়ত করেন তারা সবাইতো আর গাড়ীর মালিক নয় , যাত্রীরা সৈয়দপুর এসে কি রকম একটা বিব্রতকর অবস্থায় পরেন তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কাউকে তেমন বোঝানো যাবে না। মাইক্রো চালু হলে গাড়ীর মালিকরাও স্বল্প খরচে বিমানের গাড়ীতে যাতায়ত করবে।

আমরা কেমন যেন অবহেলার মধ্যেই থাকছি। আমার প্রশ্ন হলো ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য একটা মাইক্রো ব্যবস্থাতো করা যেতো, না হয় ২০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হতো। ব্যবসায়ীরাও বিমানে যাতায়ত করেন। অনেক সাধারণ মানুষকে জরুরী প্রয়োজনে বিমানে যেতে হয় । এখন ছাত্রদেরও বিমানে যেতে হয়। আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরতো নিয়মিতই যেতে হয়। তারাতো তাদের প্রয়োজনেই কাজটা করতে পারেন। তারাই বেশী উপকৃত হবেন। আমরা সাধারণ যাত্রীরা ফাঁকে ফাঁকে উপকৃত হতাম। বিমানের ১টি মাইক্রো ব্যবস্থা করার সামর্থ কি তাদের নাই? আমাদের এমপি ১ এবং ২ দুজনই খুবই প্রভাবশালী এমপি। তারা চেষ্টা করলে হবে না একথা আমরা বিশ্বাস করি কেমনে? তাদেরকে হয়তো কেউ বলেইনি।

এক সময় ঠাকুরগাঁওয়েরই বিমান মন্ত্রী ছিল , বিমান বন্দর চালুর বিষয় ভাবতেই পারেননি। তিনি পর্যটনেরও মন্ত্রী ছিলেন , বালিয়াডাংগীতে একটা আমের গাছ আছে , যেটার জন্যই আমরা গর্ব করি , তাতে ১০ ফুট প্রাচীর দেওয়ারও প্রয়োজন অনুভব হয়নি। এখন তো অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয় এখন হবে , বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, নিশ্চয় আমরা খুশি। বর্তমান এমপি সাহেবরা ঠাকুরগাঁও বিমান বন্দর চালু করতে পারলেন না, পারছেন না, নাকি পরে করবেন , সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে , সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কেই থাকুন।

আমাদের চাহিদার প্রতি আপনারা আর একটু মনোযোগ দিন না, মনে রাখবেন আপনাদের প্রতি আমাদের মনোযোগ নষ্ট করতে চাইনা। সে সুযোগ নিবেননা কেনো? অন্তত: নির্বাচনী ইসতেহারে লিখুন , আমরা আশায় বুক বাঁধি। আপাতত: এটাও একটা চমক হতে পারে। দেখুননা নির্বাচনের আগে একটা চমক দিন, আমাদেরকে একটা আনন্দ মিছিল করার সুযোগ দিন। আমরা কমপক্ষে আশা করবো , সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বিমানের যাত্রীদের জন্য ঠাকুরগাঁও – সৈয়দপুর মাইক্রো সার্ভিস চালু হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/