• বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

আ’লীগে নির্বাচনী উৎসব, অস্বস্তিতে শরিকরা

Reporter Name / ১৮৬ Time View
Update : বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩
ছবি- ইন্টারনেট।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগে চলছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের নেতাকর্মীরা নির্বাচন নিয়ে মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দল বেঁধে নির্বাচনী অফিসে গিয়ে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কিছুটা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার শরিক ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে।

ক্ষোভ ও অস্বস্তি বিরাজ করছে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে। এই অস্বস্তি শুরু হয় আওয়ামী লীগ ৩শ’ আসনের ২টি বাদে ২৯৮টি আসনেই প্রার্থী দেয়ার পর। জোটের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে শরিক দলগুলোর দাবি। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এরই মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শরীকদের ছাড়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে না।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২৯৮ আসনে প্রার্থী দেয়া হলেও জোটের বেশ কয়েকটি আসন এবার বদল হতে পারে। এমন আশা নিয়েই বর্তমান জোটের আসনে প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের যারা জোটের আসনে প্রার্থী তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দলের তৃণমূলে প্রভাব পড়তে পারে বলেই স্থানীয় নেতারা মনে করছেন। এসব এলাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে দাবি করা হচ্ছে, জোটের শরিকরা সবসময় ‘নৌকায় চড়ে বৈতরণী’ পার হলেও এরপর আর জনগণের কোনো খেয়াল রাখে না। অপরদিকে সেসব আসনে জোটের প্রার্থী রয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ক্ষোভও বেশ পুরনো। এসব বিবেচনায় নিয়ে জোটের আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ায় বেশ খুশি আওয়ামী লীগের তৃণমূল।

গত রোববার ২টি বাদে ২৯৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দুই আসনের মধ্যে কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী দেয়নি দলটি। এসব আসনে কৌশলগত কারণে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে একাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের পদ ছেড়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এ ছাড়াও প্রায় প্রতিটি আসনেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় ও জোট সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। এমনকি জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জাতীয় পার্টিও সারা দেশেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

তবে আওয়ামী লীগ ও জোটসূত্র জানিয়েছে, ১৪ দল শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় পার হওয়ার পর জোট শরিকদের সঙ্গে বসবে আওয়ামী লীগ। ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই পরিস্থিতি অনুযায়ী কাকে কোন আসনে ছাড় দেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে সমঝোতা হওয়া আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের সরিয়ে শরিকদের নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে আসন ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, শরিক হলেই তাকে নমিনেশন দেওয়া হবে না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থী না হলে শুধু শরিক বলেই কাউকে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ।

তবে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ৩০০ আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবে। তবে সমঝোতা হলে জোটের শরিকদের কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি সমন্বয় করা হবে। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের ৭টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির তিনটি, জাসদের দুটি, তরীকত ফেডারেশনের একটি এবং জাতীয় পার্টি- জেপির একটি। পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বি. চৌধুরীর দল বিকল্পধারাও গত তিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে। যদিও তারা ১৪ দলে নেই। বর্তমান সংসদে তাদের দুটি আসন রয়েছে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল সূত্র বলছে, দলীয় প্রার্থীদের বসিয়ে শরিকদের নৌকা দেওয়া সম্ভব হলেও অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে যেতে পারেন। আর যদি এত কিছুর পরও দল থেকে প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভসহ বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েই যাবে। জোটের শরিকদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগি হলেও যারা বর্তমান চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন, তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেবে বলে তৃণমূল নেতারা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, যেসব আসন বর্তমান সংসদে জোটের আসন রয়েছে সেসব আসনের আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বছর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়টি বেশ কয়েকটি আসনে দলীয় নেতা-কর্মীরা আগেই আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে জানিয়েছেন। এখন শরিকদের আসনে প্রার্থী দেওয়ায় বেশ খুশি রয়েছেন ওই এলাকাগুলোর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এসব নেতার দাবি, বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের তৃণমূলসহ স্থানীয় জনগণের পাশে পাওয়া যায়নি এসব শরিক দলের সংসদ সদস্যদের।

বর্তমান সংসদে ১৪ দলীয় জোট শরিকদের আসনগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া-২ আসনের বর্তমান সংসদ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় দৈনিক ইনকিলাবের। তিনি ওই আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কিনেছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, আমি মনোনয়নপত্র তুলেছি (স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে) মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছি, আর ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক চলছে। পরে দল থেকে যদি বসে যেতে বলেই তাহলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছি, সেটা গ্রহণ করাও হয়েছে। দল বসতে নির্দেশনা দিলেও বসবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, দল আমাকে বসতে বললেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ আমাকে বসতে দেবে না। এটা আমার পক্ষেই থাকবে। আমি নিজেও বসবো না। তার ভাষ্য হলো, সারা বাংলাদেশের সব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রত্যাহার করতে বললে আমিও প্রত্যাহার করবো। না হলে নয়।

তিনি দাবি করে বলেন, ইনু (হাসানুল হক ইনু) সাহেব যে প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করুন উনার জামানু বাজেয়াপ্ত হবে ইন শা আল্লাহ। তবে মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রী বলেন, যারা জোটের আসনে প্রার্থী হয়েছেন তারা তো অধিকাংশেরই মাইন্ড সেট হয়ে থাকার কথা। এক্ষেত্রে যদি কেউ চেয়ারম্যান পদ থেকে পরত্যাগও করেন কিছু করার নেই। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

রাজশাহী-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। জোটের আসনে যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বসে যেতে হয় তাহলে দলীয় সিদ্ধান্তই নেবে নেবেন বলে জানান তিনি। তবে বর্তমান সংসদ সদস্যের নিজস্ব ভোট বেশি নেই বলেই জানান তিনি। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, আমাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দেবেন আমি তাই করবো। তবে উনি (ফজলে হোসেন বাদশা) যদি উনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন তাহলে ৪-৫ হাজারের বেশি ভোট উনি পাবেন না, এমন তথ্যই আমাদের কাছে আছে। উনি উনাদের দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে আমি জয়লাভ করবো ইন শা আল্লাহ। তবে ওই আসনকে জোটের আসন বলায় প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তিনি বলেন, এটাকে জোটের কিভাবে জোটের আসন? এটা কি দলিল করে লিখে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও জোট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপিহীন নির্বাচনে আসন বাড়াতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে শুরু থেকেই ‘দরকষাকষির’ করে আসছে ১৪ দলের জোট শরিকরা। ১৪ দলীয় জোটের বিভিন্ন বৈঠকে এ নিয়ে জোটের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর কাছে এ বিষয়টি তুলেছেন জোটের শরিকরা। তবে এখন শেষ মুহূর্তে এখন অনেকটা নমনীয় হয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের শরিকরা। তবে বর্তমান সংসদে নিজেদের দখলে থাকা আসনগুলোর সঙ্গে আরও দু-চারটি আসন বাড়িয়ে নিতে চান জোটের শরিক দলগুলো। আওয়ামী লীগ ও জোট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনে দীর্ঘদিন ১৪ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। কিন্তু এবার ওই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। গতকাল ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে রাশেদ খান মেননকে বরিশালের বাবুগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন নিতে আওয়ামী লীগ থেকেও বলা হয়েছে। জোটের অনেক শরিক দলের নেতারাও একই পরামর্শ মেননকে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল ওই নির্বাচনী এলাকা থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

এ বিষয়ে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার পর বাহাউদ্দিন নাছিম সাংবাদিকদের বলেন, আমি সবার কাছে দোয়া চাই। এই এলাকার সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করব। এখানকার সব মানুষ অনেক সচেতন এবং তাদের বিবেকবোধ অনেক সমৃদ্ধ। তাই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের জন্য দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তুলব। দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি পর্যায়ের ও শ্রেণির পেশার সবার কাছেই আমি দোয়া চাই।

এদিকে একই দিনে গতকাল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশদে খান মেননের বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বাবুগঞ্জ উপজলো ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসনে। ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয় দেওয়া হয়েছে সরদার মো: খালেদ হোসেনকে। ওই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু।

১৪ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিজের প্রয়োজনেই শরিকদের সঙ্গে রাখবে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। কারণ নির্বাচনের পরও বিভিন্ন ইস্যু তো থাকবেই। এসব ইস্যুতে ১৪ দলীয় জোট শরিকদের লাগবে আওয়ামী লীগের। তবে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া না দেওয়ায় ব্যাপক হতাশা রয়েছে জোটের নেতাদের মধ্যে। তবে আগামী ৭ই ডিসেম্বরের পরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে জোট সূত্র জানিয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের চেয়াম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ইনকিলাবকে বলেন, ১৪ দলীয় জোট আছে, থাকবে। তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোট আদর্শিক জোট এটা শুধু নির্বাচনী জোট নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি পাঁচটি আসনে ছাড় পেলেও তিনটিতে জিতেছিল। দলটি বর্তমান এই তিন সংসদ সদস্য ঢাকা-৮ আসনে দলের সভাপতি রাশেদ খান মেনন, রাজশাহী-২ আসনে সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং সাতক্ষীরা-১ আসনে অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। একইভাবে জাসদ গত নির্বাচনে পাঁচটি আসনে ছাড় পেলেও জিতেছিল দুটিতে। পরে উপনির্বাচনে আরেকটি আসনে জিতে তাদের আসন দাঁড়ায় তিনটি। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য হন। তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর চট্টগ্রাম-২ আসনে সংসদ সদস্য হন।

এদিকে গতকাল ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ঢাকা-৬ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা গিয়েছেন ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ সময় ঢাকা-৬ বর্তমান সংসদ সদস্য ও গত নির্বাচনের মহাজোটের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদের প্রসঙ্গ তোলেন সাংবাদিকরা। আওয়ামী লীগ জোটে গেলে যদি এ ঢাকা-৬ আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড়তে হয় তখন আপনার (মোহাম্মদ সাঈদ খোকন) করণীয় কী হবে? এ সময় ওই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে উদ্দেশ করে তিনি হিন্দিতে বলেন, ‘মেরে আঙ্গেনে মে তুমহারা কিয়া কাম হ্যায়’। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আমার এলাকায় তোমার কাজ কী? আওয়ামী লীগ তাঁর নেতা-কর্মীদের জন্য যা নির্ধারণ করবে তা দলের নেতা-কর্মীদের আইন, অনুসরণীয়-অনুকরণীয় জানিয়ে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, এটা পরিপালনের মধ্য দিয়ে আমরা রাজনীতি করি। দলের কথাই শেষ কথা, দলের কথাই চূড়ান্ত। পার্টির ডিসিশন-ই ফাইনাল।

আরএম/টাঙ্গন টাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/