• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

তৃণমূল সক্রিয় রাখতে বিএনপির ভিন্ন চিন্তা

টাঙ্গন টাইমস ডেস্ক / ১২০ Time View
Update : শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪
বিএনপির লগো। ছবি- ইন্টারনেট

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সেই লক্ষ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেছেন তিনি।

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বাস্তবতার নিরিখে নানা কারণে কঠোর কর্মসূচিতে না যাওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির নীতিনির্ধারক ও সমমনা দলের অধিকাংশ নেতা বলেছেন যে, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হবে রোজার মাস। বেশকিছু নেতাকর্মী এখনো কারাগারে বন্দি আছেন। ফলে এ মুহূর্তে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া সমীচীন হবে না। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় এবং উজ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে ভিন্ন কিছু কর্মসূচি নেওয়াটাই সমীচীন।

সেজন্য আসন্ন রমজান মাস হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই মাসে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইফতার-মাহফিলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা যাবে। এক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ রাখতে পবিত্র রোজার মাসে সারা দেশে ইফতার মাহফিল আয়োজনের বিষয়ে বেশি প্রস্তাব পেয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিগগির মানববন্ধন বা সমাবেশের মতো কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত বুধবার রাতে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংযুক্ত ছিলেন। ওই বৈঠকে সারা দেশে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় এবং উজ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইফতার মাহফিল করার বিষয়ে জোরালো প্রস্তাব দেওয়া হয়। আজকালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সম্পাদকরা একটি কর্মপরিকল্পনা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কাছে দেবেন। সে অনুযায়ী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এ ছাড়া আবারও মাঠের কর্মসূচি দেওয়া নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার কথা বলেন নেতারা। তবে কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, রমজানের আগে অবশিষ্ট নেতাকর্মীরা কারামুক্ত হবেন। এরপর আন্দোলন নিয়ে নানা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শেষে ভেবে-চিন্তে নতুন কর্মসূচির দিকে যাওয়া যাবে।

বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা আলাপকালে জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদফা দাবিতে টানা আন্দোলনের ফসল তারা ঘরে তুলতে পারেননি। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে রাজপথে লাগাতার হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় কেন্দ্রসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অনেকটাই নিরাশ হয়েছেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ২৭ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই ছাড়া পেয়েছেন। তবে কোথাও কোথাও এখনো নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা এখনো কারাগারে আছেন। কোনো কর্মসূচি পালন করতে গেলে তো নেতাকর্মীদের নিয়ে করতে হবে। ফলে এখন নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখাই বিএনপির অন্যতম টার্গেট। সেইসঙ্গে বরাবরের মতো এবারও গুম খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারে ঈদ উপহারসামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চান।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে চলমান সরকার পতনের আন্দোলনে ক্ষমতাসীনদের হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার বিভিন্ন প্রস্তাবনা এসেছে। তন্মধ্যে সারা দেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার-মাহফিলের আয়োজনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

একাধিক সূত্র জানায়, সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য আছে। কোথাও নির্যাতনের মাত্রা বেশি, কোথাও কিছুটা কম। কোথাও অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কোথাও তুলনামূলক কম গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় একেক বিভাগের ইফতার-মাহফিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন। মূলত ব্যাপক উপস্থিতি ঘটিয়ে সমাবেশের আদলে এসব ইফতার-মাহফিল করতে চায় বিএনপি।

বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এখন কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার বিষয়কেই দলের হাইকমান্ড প্রাধান্য দিচ্ছেন।

বিএনপির ফরিদপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক বলেন, সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ রাখতে বিএনপির হাইকমান্ড কাজ করছে।

আরএম/টাঙ্গন টাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/