• সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

সংসদ নির্বাচন ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি !

Reporter Name / ২৫৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৩

আবু মহী উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা
দেশে সব সময়ই সমস্যা থাকে। সমস্যার আবার ধরনও আছে। তবে অন্য সময়ের তুলনায় নির্বাচনের আগে আগে সমস্যার তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এই সময়ে সরকারের দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারার উপর নির্ভর করে নির্বাচনের ফলাফল।
বর্তমান সময়ে জাতীয় সমস্যা সমুহ হলো নির্বাচন কি পদ্ধতিতে হবে ? নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ৩ বড় দল মুখোমুখি। তত্বাবধায়কে দাবী মানলে তাতেও তেমন লাভ হবে না। ফরমুলা খুব সোজা। তাহলো বিএনপি যদি সরকারকে বাধ্য করতে পারে, তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু করতে। এর জন্য মানুষকে রাস্তায় নামাতে হবে। এই আন্দোলনে জিতলে বিএনপি জিতবে, আর সরকার যদি মোকাবেলা করতে পারে তাহলে আওয়ামী লীগ জিতব
এই বিষয়টি পরিস্কার। এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান-দুই পক্ষের সমঝোতার নির্বাচন হবে। মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অস্পষ্টতা থাকবে। যেমন মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান যার যে জায়গা সে বিষয় স্পষ্টীকরণ করতে হবে। সমঝোতা সবচে মোক্ষম সমাধান হলেও তা যে হবে না সেটা আমরা বুঝেছি। এটা রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
বরং আমরা ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের আলোচনা করি
বর্তমান সময়ে বার্নিং ইসু ডেঙ্গু। দেখা যাচ্ছে করোনার চেয়েও ভয়ংকর ডেঙ্গু। তার চেয়েও আশংকাজনক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। প্রতিদিন আশংকাজনক হারে মানুষ মারা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন সমস্যা নিয়ে শেষের দিকে রোগীরা হাসপাতালে আসে, সে কারণে তেমন কিছু করা যায় না। বাংলাদেশে দোকানে সকল রকমের ঔষধ সহজলভ্য। কোন একজন ক্রেতা দেশের যে কোন দোকান থেকে যে কোন রকমের ঔষধ কিনতে পারে। ফলে জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা সত্বেও এন্টিবায়োটিক ঔষধ পাওয়া যায়। আবার প্রাথমিক ভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা বা ডিটেকশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত সকল ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে বা আলাদা বুথ তৈরি করা। তাহলে উপকৃত হবে জনগণ। এদিকে সিটি কর্পোরেশন ঔষধ ছিটায়, যথেষ্ট সন্দেহ করা হচ্ছে ঔষধ ভেজাল, সে ঔষধও নিয়মিত ছিটানো হয় না , ফলে ডেঙ্গু মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। তার চেয়েও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা কি হতে পারে তা আমরা জানি না। পৃথিবীর মধ্যে আমাদের দেশই বোধ হয় একমাত্র দেশ যেখানে নাগরিকের সকল অপকর্মের দায় বহণ করে সরকার। মানুষের বাসা বাড়ীতে ডেঙ্গু মশার উৎপাদনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে আর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হবে এসব যারা বিশ্বাস করেন তারা মেধাবী নয়।
নাগরিক দ্বায়িত্ব পালনে নিজ নিজ বাসাবাড়ী মশামুক্ত রাখার দ্বায়িত্ব বাসা মালিকের। মালিকদের মনে করতে হবে তার বাড়ীর মশা দিয়ে তো মেয়র আক্রান্ত হবে না, আক্রান্ত হবে তার পরিবারের সদস্য। সেক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজনেই নিজের বাসাবাড়ী পরিস্কার রাখতে হবে। কেমন ব্যপার নিজ বাড়ীতে মশার জন্ম হবে, বেড়ে উঠবে, মানুষকে কামড়াবে, ডেঙ্গু হবে, হাসপাতালে নিতে হবে, খরচতো বেশুমার হবে, জীবন সংশয়ও আছে। বাড়ীর মালিক মশা পুষবে আর সিটি কর্পোরেশন আমার বাড়ীর মশা মারবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কায়দা আমাদেরই বের করতে হবে। করোনা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা দুনিয়ার কোন দেশেরই ছিলনা। আমাদেরতো নয়ই। কিন্তু আমরা তো মোকাবেলা করেছি এবং অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো করেছি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু নয় একেবারে নির্মূল করার মোক্ষম অস্ত্র আমাদেরই হাতে আছে। বর্তমান সময়ে উপসচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যন্ত যতো কর্মকর্তার পদ আছে, প্রমোশন দিয়ে তার ৩ গুন নিয়োগ করেছি। এদের কোন কাজ নাই। নির্বাচন পর্যন্ত তাদের কোন কাজ নাই। তাদের সামনে জাতিকে সেবা দেওয়ার অপুর্ব সুযোগ উপস্থিত। তারা ইচ্ছা করলেই এই ভুমিকাটা রেখে ইতিহাসের অংশ হতে পারেন। তাদের সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারকে পদক্ষেপটা নিতে হবে। জাতির এই দূর্যোগ মোকাবেলায় গোটা ঢাকা শহরকে ১০০০ ভাগে ভাগ করে একটি করে জোন করা হোক। এই জোনের দ্বায়িত্বে থাকবেন একজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি এই নির্ধারিত বাড়ীগুলিতে নজরদারি করবেন।
প্রথমে বাসার মালিকদের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে নিজ নিজ বাসাকে মশামুক্ত করার অনুরোধ করবেন। না শুনলে পরে জরিমানা করবেন, তার পরেও না শুনলে জরিমানা আরো বেশি করবেন। পর্যায়ক্রমে জরিমানার পরিমান বাড়াবেন। আর এর মধ্যে কোন বাড়ীতে কারো ডেঙ্গু হলে তিনি সোজা চাকুরীচ্যুত হবেন। এতে অনেকগুলো লাভ হবে। ডেঙ্গু মুক্ত হবে, এডিস মশা নির্মুল হবে। টাকা খরচ করে কর্মকর্তাদের বিদেশে থেকে নিষ্ফল ট্রেনিং দিয়ে আনতে হবে না, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ কেনার ঝুঁকি থাকবে না, দূর্ণীতি করার ক্ষেত্র থাকবে না, নিষ্কর্মা কর্মচারী পুষতে হবে না। এদিকে বাড়তী ব্যয় করতে হবে না, আর বাসা মালিকরাও নিজ নিজ বাড়ী পরিস্কার রাখার অনুশীলন কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে। এই অনুশীলনই স্থায়ী কাজে লাগবে।
তিন মাসে গোটা রাজধানীর বাড়িঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হবে। আবার আমাদের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেশ সেবার সর্বোচ্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন। দেশ ডেঙ্গু মুক্ত করতে পারলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে আমরা সম্মানিত হবো। তারাও ইতিহাসের অংশ হবেন। দেশ সেবার জন্য কিছুদিন কাজ করলেই এই সম্মানটা আমরা অর্জন করতে পারি। আলাদা সময় ব্যয় করতে হবে না, বাসা মালিকরাও নিজ নিজ বাড়ী পরিস্কার রাখার অনুশীলন বজায় রাখবেন, এই অনুশীলনই কাজে লাগবে, আবার আমাদের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতিকে কিছু দিতে পারবেন।
সিটি কর্পোরেশনের মশা মারার টেনশন না থাকলে,অন্য দিকে নজর দেবার সময় পাবেন। এই মেধাটা রাজধানীর পানি নিষ্কাশনে ব্যয় করতে পারবে। রাজধানীকে বসবাসযোগ্য করতে কত অর্থ বাঁচানোর সুযোগ প্রস্তুত হয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/